জাতীয়

ভুল চিকিৎসার দায় দুই লাখ টাকায় রফা!

আশার আলো রূপ নিচ্ছে অন্ধকারে। অচিরেই শেষ হতে যাচ্ছে একটি স্বপ্ন। ২৩ বছরের একটি টগবগে তরুণকে অকাল মৃ’ত্যুর ঠেলে দিয়েছে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা। সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পরিবর্তে ওই তরুণ এখন মৃ’ত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা ল’ড়ছে। ভুল অ’স্ত্রপচারের কারণে সে ক্যান্সারে আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে। জীবন-মৃ’ত্যুর সন্ধিক্ষণে সে এখন স্কয়ার হাসপাতা’লে ডাক্তার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফারুক আহমেদ এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তোভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় রফা করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জের ফিরোজা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। ভুক্তভোগী ওই তরুণের নাম হাসানুজ্জামান শি’বলু (২৩)। সে দৌলতপুর উপজে’লার কাপশাইল গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছে’লে। মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্র সে। একটি ভুল চিকিৎসা ধীরে ধীরে মৃ’ত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাকে।

জানা যায়, চলতি বছরের ৩০ জুলাই গলায় টনসিল জনিত অ’সুস্থতা নিয়ে সে ওই হাসপাতা’লে ভর্তি হয়। ওইদিন বিকালে ডাক্তার শফিকুল ই’স’লা’ম ও ডাক্তার ওবায়দুর রহমান তার অ’স্ত্রপচার করেন। এরপর ৬ আগস্ট পর্যন্ত ওই হাসপাতা’লে থেকে চিকিৎসা নেয় শি’বলু। আর ৮ আগস্ট থেকে তার গলা থেকে অনবরত র’ক্ত বের হতে থাকে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে নিয়ে যাওয়া হয়।

শি’বলুর বাবা হাবিবুর রহমান জানান, শি’বলুর গলা দিয়ে অনবরত র’ক্ত বের হতে থাকলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে নিয়ে যাই। এরপর দায়িত্বরত চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে, শি’বলুর ভুল অ’পারেশন করা হয়েছে। সে এখন মৃ’ত্যু ঝুঁ’কিতে রয়েছে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতা’লে ভর্তি করি।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক জানিয়েছেন শি’বলুর বর্ণ ক্যান্সার ধ’রা পড়েছে। প্রথমে তাকে স্কয়ার হাসপাতা’লের আইসিইউতে রাখা হয়। এতে প্রতিদিন খরচ হয় এক লাখ টাকা। এজন্য তাকে মিডফোর্ড সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে ভর্তি করি। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতা’লে রেফার্ড করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা করা সম্ভব না হলে তাকে ভা’রতের মাদ্রাজে নিয়ে যেতে হবে। এতে প্রায় ৪০-৫০ লাখ টাকা খরচ হবে।

হাবিবুর রহমান জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ কার্যালয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর বুধবার এ বিষয়ে লিখিত অ’ভিযোগ দায়ের করি। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্প্রতিবার বেলা ১১টার দিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের মধ্যস্ততায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে চুপ থাকতে বলেন।

আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, অ’ভিযু’ক্ত হাসপাতালকে জ’রিমানা করা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেকে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিয়েছি।জ’রিমানার বিষয়টি স্বীকার করেন ফিরোজা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিসিপশনিস্ট ইয়াসমিন সুলতানা রিতা ও ম্যানেজার (মা’র্কেটিং) মো. শামীম। রিতা বলেন, ঘটনা সত্য। বৃহস্প্রতিবার ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে মিমাংসা করা হয়েছে। ওটা তো মিমাংসা হয়ে গেছে, তাহলে আপনারা আবার কেন আসছেন, প্রশ্ন করেন রিতা।

এ বিষয়ে কথা বলতে হাসপাতা’লের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহেদুর রহমানকে বারবার কল করেও পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন উত্তর মেলেনি।মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, লাইসেন্সবিহীন ও অনিয়মকারী অ’বৈ’ধ হাসপাতা’লের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা নিতে জে’লা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জে’লা প্রশাসকের সহযোগিতায় শিগগিরই অ’ভিযান চালানো হবে।

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!