সিলেট

সিলেটে জ্বর-সর্দির প্রকোপ, আ’ক্রা’ন্তদের বেশিরভাগ শি’শু

সিলেটের আবহাওয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিবর্তন লক্ষণীয়। দিন থেকে রাত পর্যন্ত থাকছে প্রচন্ড গরম। আবার মধ্য রাতে পড়ছে হাল্কা ঠান্ডা। এতে জ্বর-সর্দি-কাশিতে আ’ক্রা’ন্ত হচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। তবে আ’ক্রা’ন্তদের বেশিরভাগই শি’শু ও কি’শোর।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাই’রাল ফ্লুর জন্য জ্বর-সর্দির প্রকোপ বেড়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরাম’র্শ নেওয়া উচিত।নগরের কাজীটুলা এলাকার দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মাহিয়া খান গত এক সপ্তাহ আগে জ্বরে আ’ক্রা’ন্ত হন। দুই দিন পর জ্বর-সর্দিতে আ’ক্রা’ন্ত হন তার ছোট ভাই ও বোন। তারা সুস্থ হয়ে উঠলে জ্বরে আ’ক্রা’ন্ত তাদের বাবা কবির আহম’দ।

কবির আহম’দ বলেন, ‘প্রথমে বড় মে’য়ে জ্বরে আ’ক্রা’ন্ত হওয়া পর বাসার প্রায় সবাই জ্বর-সর্দিতে আ’ক্রা’ন্ত হই। প্রথমে ভ’য় পেয়ে গেছিলাম। তবে চিকিৎসকের পরাম’র্শ নিয়ে জানতে পারলাম আবহওয়া পরিবর্তন হওয়ায় ভাই’রাল ফ্লুতে আ’ক্রা’ন্ত হয়েছি। চিকিৎসকের কাছে আমা’র মতো আরও অনেকেই জ্বর-সর্দি ও কাশি নিয়ে এসেছেন।’সিলেটে গত কয়েকদিন থেকে গরমে অ’তিষ্ঠ জনজীবন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র গরমের কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বা’স উঠেছে। গরমের কারণে কোমল পানীয় পানে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। তবে মধ্য রাতে কিছুটা ঠান্ডা অনুভ‚ত হচ্ছে। আবহাওয়ার এই বৈপরীত্যে সর্দি-কাশিতে আ’ক্রা’ন্ত হচ্ছেন মানুষ।

এদিকে জ্বর-সর্দিতে আ’ক্রা’ন্তদের বেশিরভাগই শি’শু বা কি’শোর। বাসায় একজনের জ্বর হলে বাকিরাও আ’ক্রা’ন্ত হচ্ছেন জ্বর, সর্দি-কাশিতে। তবে জ্বর-সর্দি ও কাশিতে চার-পাঁচ দিনের বেশি থাকছে না। এদিকে জ্বর-সর্দি-কাশি বাড়ায় নগরের ফার্মেসিগুলোতে প্যারাসিটামল জাতীয় জ্বর-সর্দির ওষুধ বিক্রি বেড়েছে।বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত চার-পাঁচদিন থেকে জ্বর-সর্দির ওষুধের বিক্রি বেড়েছে। বেশিরভাগ ক্রেতারা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধ নিচ্ছেন।

নগরের সুবিদবাজার এলাকার রুহেল আহম’দ বলেন, ‘আম’রা বড় ছে’লে গত ৫ দিন আগে জ্বর-সর্দিতে আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে। সে কিছুদিন আগে স্কুলে গিয়েছিল। পরে আমা’র ছোট মে’য়ে জ্বরে আ’ক্রা’ন্ত হয়। এতে করে ভ’য় পেয়ে যাই। অবশ্য ফার্মেসি থেকে জ্বর-সর্দির ওষুধ খাওয়ানোর পর ছে’লে সুস্থ হয়ে উঠেছে।’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জ্বর-সর্দি-কাশির তীব্রতা থাকছে তিন থেকে সাতদিন। এক্ষেত্রে বিচলিত হওয়া যাবে না। জ্বর কিংবা ঠান্ডা, গলা খুসখুস মানেই ক’রো’না নয়। ভাই’রাল ফ্লু এর জন্য অনেকেই জ্বরে আ’ক্রা’ন্ত হচ্ছেন। তাই জ্বর হলেই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরাম’র্শ নিতে হবে। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ জ্বর-সর্দিতে আ’ক্রা’ন্ত হলে তাকে বিদ্যালয়ে দেওয়া উচিত হবে না।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শুক দেব পাল বলেন, ‘ভাই’রাল ফ্লু এর জন্যই জ্বর-সর্দির প্রকোপ বাড়ছে। শি’শু ও বাচ্চারাই আ’ক্রা’ন্ত হচ্ছেন বেশি। বড়দের মধ্যে এ প্রকোপ তুলনামূলক কম।’তিনি আরও বলেন, ‘ভাই’রাল ফ্লু ও ক’রো’নার উপসর্গ প্রায় একই। তবে কোভিডে আ’ক্রা’ন্ত হলে ফুসফুস দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে করে শ্বা’সক’ষ্ট হয়। সাধারণ ফ্লুতে এমনটা হয় না। এছাড়া এক সপ্তাহের বেশি জ্বর-সর্দি থাকলে ও স্বাদ-গন্ধ না পেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরাম’র্শ নিতে হবে।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মক’র্তা ডা. মো. জাহিদুল ই’স’লা’ম বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ভাই’রাল ফ্লুতে আ’ক্রা’ন্ত হচ্ছেন বেশি। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে জ্বর-সর্দি না কমলে চিকিৎসকের পরাম’র্শ নেওয়া উচিত।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকার অনেক ভেবে-শুনে স্কুল খুলেছে। এছাড়া স্পষ্ট নির্দেশনা আছে জ্বর-সর্দি থাকলে শিক্ষার্থীরা যাতে স্কুলে না আসে। এ বিষয়ে স্কুলের শিক্ষক ও অ’ভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

 

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!